
সিলেটের ওসমানীনগরে রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আয়োজিত এক সালিশি বৈঠকে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুস সামাদ (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের কিত্তে কমরপুর (সিকন্দরপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সামাদ ওই গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের সদস্যসহ ৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন— ওই গ্রামের মৃত রহিম উল্যার ছেলে রফিক মিয়া, শফিক মিয়া, আব্দুল কাহির ও আব্দুস সত্তার এবং আব্দুল কাহিরের দুই ছেলে আব্দুস সামাদ রাহিল ও জাবেদ মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিত্তে কমরপুর গ্রামের রফিক মিয়া গংদের সাথে নিহত আব্দুস সামাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় মাসুক মিয়ার বাড়িতে এক সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালীন রাত ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুস সামাদসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সামাদকে উদ্ধার করে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত নিহতের ভাই সুহেল, রুহেল, চাচাতো ভাই আলী ও শ্বশুর আব্দুল গফফারসহ বেশ কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তসহ ৬ জনকে আটক করা হয়।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে আটক করে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।