সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বোগলাবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির নেতৃত্বে একটি মসজিদ ও একাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের সোনাচুরা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে কয়েকশ’ নারী-পুরুষ অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বোগলাবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও বালুচর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে একদল লোক সোনাচুরা গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা স্থানীয় একটি মসজিদ ও বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে সাবেক সেনা সদস্য তাইজ উদ্দিন, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র হার্মাফিজ আহমদ তানিম ও শাহ আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তারা বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পবিত্র মসজিদ ও নিরীহ মানুষের জানমালের ওপর এই হামলা অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ। অভিযুক্ত হারুন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আমরা অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহান মাস্টারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা বাবুল মেম্বার, জয়নাল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, উপজেলা যুবদলের সহ-সংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা জাহিদ হাসান ইসলাম অনিক, বোগলা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কারুক মিয়া এবং সোনাচুরা মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, মসজিদে হামলার ঘটনায় আমরা স্তব্ধ। আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাধব রায় এবং সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা অনৈতিক কাজ করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন