সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুমা আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গৃহবধূর স্বামী দিরাই পৌর শহরের চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা কয়েস আহমদ মৃত্যুর ঘটনাকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বললেও ওই গৃহবধূর পিত্রালয়ের লোকজন এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলছেন।
১২ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সুমা আক্তারের মরদেহ দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী কয়েস আহমদ। এ সময় নিহত সুমা আক্তারের বোন চন্ডিপুর গ্রামের প্রতিবেশী আকিকুর রহমানের স্ত্রী সাবিনা বেগম সঙ্গে ছিলেন। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চন্ডিপুর গ্রামের আকিকুর রহমান ও কয়েস চৌধুরী দুজনে প্রতিবেশী। আকিকুর বিয়ে করেন নিহত সুমা আক্তারের বড় বোন সাবিনা আক্তারকে। দেড় বছর আগে কয়েস আহমদের সঙ্গে বিয়ে হয় নিহত সুমা আক্তারের। এই দম্পত্তির ৫মাস বয়সী এক শিশু সন্তান রয়েছে। সাবিনা বেগম বলেন, ঘটনার দিন মারধর, চিৎকার- চেঁচামেচি শুনে তাদের ঘরে যেতে চাইলে, আমাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। বেশ কিছুক্ষণ পরে আমার বোনকে মৃত অবস্থায় তার স্বামী হাসপাতালে নিয়ে আসতে রওয়ানা করলে, আমি সঙ্গে আসি। হাসপাতালে লাশ রেখে কয়েস পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, পাশাপাশি বাড়িতে থাকলেও আমার বোনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারতাম না। ওরা আমার বোনকে সবসময় নির্যাতন করতো। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পিন্টু কুমার দাস বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, হাসপাতালে আনার অন্ততঃ ১/২ ঘন্টা আগেই মারা গেছেন সুমা আক্তার। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
দিরাই থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাস বলেন, খবর পেয়ে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।
মন্তব্য করুন