হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তামান্না আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ। পরকীয়া প্রেমের জেরে এবং স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুটের উদ্দেশ্যে সহযোগীদের নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে র্যাব-৯ ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬০) নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যসমত এলাকার বাসিন্দা এবং তার ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী একজন দুবাই প্রবাসী। রফিকুলের স্ত্রী তামান্না আক্তার তার শাশুড়ির সাথেই ওই বাড়িতে বসবাস করতেন।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া শাখা জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে শিপন মিয়া নামে এক ব্যক্তির সাথে তামান্নার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিপন প্রায়ই তামান্নার শ্বশুরবাড়িতে এসে তার সাথে দেখা করতেন। এক পর্যায়ে তারা ফেরদৌসী ইসলামের ঘরে রাখা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রবিবার রাত আড়াইটার দিকে শিপন ও তার কয়েকজন সহযোগী তামান্নার সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করেন। তারা ঘুমন্ত ফেরদৌসী ইসলামের মুখ চেপে ধরলে তিনি ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এ সময় আক্রমণকারীরা তার হাত ও পা কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং চিৎকারের চেষ্টা করলে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-৯, সিপিসি-৩ (শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প) এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি যৌথ আভিযানিক দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে নবীগঞ্জ থানাধীন ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত তামান্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত তামান্নাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত শিপন মিয়াসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন